প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সাথে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের ঘন ঘন বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস এবং সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি।
রোববার বিকাল ৫টায় প্রথমে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এর কিছুক্ষণ পরেই সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি সেখানে পৌঁছান। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, সাক্ষাৎকালে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তারেক রহমান কুশল বিনিময় করেন এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিদেশি শক্তির সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্কের ধরন সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
১৯০০ - ১৯৪৭ (ব্রিটিশ আমল): বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের সময় থেকেই এই অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে আন্দোলন করেছেন। ব্রিটিশ রাজের বিদায়ের পর ১৯৪৭-এর দেশভাগ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে বিশাল পরিবর্তন আনে।
১৯৭১ (মহান স্বাধীনতা): একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম চাবিকাঠি। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের সমর্থন এবং মার্কিন জনমতের চাপ দেশটিকে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে দেয়।
১৯৯১ - ২০২৪ (গণতান্ত্রিক সংগ্রাম): ১৯৯১-এর স্বৈরাচার পতন পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর আমলে ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নিবিড় হয়। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে 'রিসেট বাটন' হিসেবে কাজ করে।
২০২৪ - ২০২৫ (সংস্কার ও অন্তর্বর্তীকাল): ৫ই আগস্ট ২০২৪-এ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ই আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। ২০২৫ সাল জুড়ে রাষ্ট্র সংস্কারের যে কাজ চলেছে, তাতে আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা যায়।
২০২৬ (নতুন নির্বাচনের পথ): ২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশ এখন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের অপেক্ষায়। এই সময়ে তারেক রহমানের মতো শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার সাথে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ প্রমাণ করে যে, আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানই এখন মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের মতো উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি এবং সুইজারল্যান্ডের মতো নিরপেক্ষ ও উন্নত রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের এই সাক্ষাৎ কেবল সৌজন্যমূলক নয়। এটি ২০২৬ সালের পরবর্তী বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং সম্ভাব্য নতুন সরকার কাঠামোর ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার একটি বহিঃপ্রকাশ। তারেক রহমান ইতিপূর্বে তার বিভিন্ন ভাষণে 'বৈষম্যহীন রাষ্ট্র' গড়ার যে অঙ্গীকার করেছেন, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা সম্ভবত সেই রোডম্যাপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতেই এই বৈঠক করেছেন।
সূত্র: ১. যুগান্তর অনলাইন রিপোর্ট, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ (রাজনৈতিক টাইমলাইন ১৯০০-২০২৬)। ৩. বিএনপি মিডিয়া সেল ও বিএসএস (BSS) নিউজ ফিড।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |